যেকোনো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। তবে অনেক সময় শরীরের গভীর অসুখের লক্ষণ চোখের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। চোখ লাল হওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, ব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তনের মতো উপসর্গ শুধু চোখের সমস্যা নয়, বরং শরীরের বড় কোনো রোগেরও বার্তা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের কয়েকটি লক্ষণকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চলুন, জেনে নিই চোখের উপসর্গের সঙ্গে জড়িত ৫টি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা।
ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের পিছনের আলো-সংবেদনশীল অংশ রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অবস্থা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত।
লক্ষণ: ঝাপসা দৃষ্টি, চোখে কালো বা খালি দাগ দেখা, রং আলাদা করতে সমস্যা।
এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষত যাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই।
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি)
উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে চোখের রক্তনালীর গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে, যা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি নামের চোখের সমস্যা সৃষ্টি করে।
লক্ষণ: ঝাপসা দেখা, চোখে ব্যথা বা ফোলাভাব, মাথাব্যথা।
এটি কেবল চোখ নয়, হার্ট ও কিডনির স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
গ্লুকোমা (চোখের চাপজনিত সমস্যা)
চোখের ভেতরের অতিরিক্ত চাপ অপটিক নার্ভ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার নাম গ্লুকোমা।
লক্ষণ: পার্শ্বিক দৃষ্টি হারানো, আলোর চারপাশে রঙিন বৃত্ত দেখা, চোখে ব্যথা বা লালভাব। গ্লুকোমা সময়মতো ধরা না পড়লে স্থায়ী দৃষ্টিহানির কারণ হতে পারে।
ম্যাকুলার ডিজেনারেশন
বয়সজনিত এই রোগে রেটিনার মাঝের অংশ ম্যাকুলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও পাঠ্যপুস্তক পড়ার মতো কাজে ব্যবহৃত হয়।
লক্ষণ: সোজা রেখা বাঁকা দেখা, চোখের সামনে কালো ছোপ, সূক্ষ্ম জিনিস বা লেখা পড়তে অসুবিধা। ৪৫ বছর বয়সের পর এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
রক্তাল্পতা ও রক্তের অন্যান্য সমস্যা
শরীরে অ্যানিমিয়া বা অন্যান্য রক্তের সমস্যা চোখে প্রতিফলিত হতে পারে।
লক্ষণ: চোখ ফ্যাকাশে, হলদেটে বা লাল হয়ে যাওয়া, প্রদাহ, চোখের রক্তনালীর অস্বাভাবিক গঠন (চক্ষু পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে)। এসব লক্ষণ থাকলে রক্ত পরীক্ষা জরুরি হয়ে পড়তে পারে।
চোখের সামান্য পরিবর্তনও হতে পারে বড় শারীরিক সমস্যার সূচনা। তাই চোখে কোনোরকম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে শুধু চোখের ডাক্তারই নয়, শরীরের সামগ্রিক পরীক্ষাও জরুরি।
সূত্র : আজকাল
















