চোখ চুলকালে বা জ্বালাপোড়া করলে অনেক সময় ঘষা স্বস্তি দেয়। কিন্তু এই অভ্যাস সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কেন চোখ চুলকায় এবং ঘষা না করে কী করবেন, তা জানা খুবই জরুরি।
কেন ঘষছেন চোখ?
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ ঘষার সাধারণ কিছু কারণ:
১।
শুষ্ক চোখ : অশ্রু তৈরি কম হলে চোখে জ্বালাপোড়া হয়।
২। অ্যালার্জি : ধুলা, পরাগরেণু, দূষণ চোখে জমে চুলকানি সৃষ্টি করে।
৩।
ভুল পাওয়ারের চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স
৪। ঘুমের ঘাটতি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
৫। প্লেকার/স্টাই জাতীয় চোখের পাতার সংক্রমণ
চোখ ঘষা কেন বিপজ্জনক?
কর্নিয়ায় আঁচড় পড়ার ঝুঁকি বাড়ে,
কর্নিয়ার গঠন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে,
চোখের নিচে বলিরেখা, ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে,
চোখে জীবাণু ঢুকে সংক্রমণ হতে পারে,
শিশুদের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চোখ ঘষার পরিবর্তে কী করবেন?
শুষ্ক চোখের জন্য কৃত্রিম অশ্রু ড্রপ (যেমন : রিফ্রেশ, সিস্টেন)
অ্যালার্জির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ড্রপ (যেমন : আলাওয়ে বা প্যাটাডে)
ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখে দিন
স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকানো এড়িয়ে চলুন
সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করুন
দিনে ৪ বার বা তার বেশি আই ড্রপ ব্যবহার করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
চোখে বারবার বা তীব্র ব্যথা হলে, ঝাপসা দেখলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে, চোখ ঘষার পরও উপসর্গ না কমলে, ২০ বছরের নিচে কেউ নিয়মিত চোখ ঘষলে। চোখ ঘষা কখনোই স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এটি আপনার চোখের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কেন চোখ চুলকাচ্ছে বা জ্বালাপোড়া করছে, সেই মূল কারণ খুঁজে চিকিৎসা করলেই আপনি আরাম পাবেন। চোখ ঘষার প্রয়োজনই পড়বে না।
চোখে সমস্যা হলে দেরি না করে কাছাকাছি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সূত্র : ব্যানার হেলথ
















