গরমকালে খুব সহজেই শরীর পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে, অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। আপনি যদি বাইরে রোদে থাকেন, তবে শরীর থেকে পানি হারানোর পরিমাণ বেড়ে যায়। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে। আর সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি হিট স্ট্রোকেও রূপ নিতে পারে।
কিন্তু শুধু পানি পান করলেই সব সমাধান—এমন নয়। কিছু সহজ উপায়ে আপনি সারা গরমকাল সুস্থ, সতেজ ও ঠাণ্ডা থাকতে পারেন।
যখন গরম বাড়ে, তখন শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বেশি ঘামে। ঘামের মাধ্যমে পানি ও ইলেকট্রোলাইট (যেমন: সোডিয়াম, পটাসিয়াম) বের হয়ে যায়।
এমনকি হালকা কাজ করলেও শরীর অনেকটা পানি হারায়। তাই না বুঝে ফেলেই আপনি পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। ডিহাইড্রেশন শুধু তেষ্টা পেলে হয় না—এটি ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, মাথাব্যথা ও পেশিতে টানের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ডিহাইড্রেশন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর চাপ ফেলতে পারে।
চলুন, জেনে নিই গরমে হাইড্রেট থাকার ৭টি সহজ কৌশল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন
রাতের ঘুমে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই দিন শুরুতেই ১ গ্লাস পানি পান করলে শরীর ও মেটাবলিজম দুটোই সচল হয়। চাইলে একটু লেবু বা এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন।
পানি-সমৃদ্ধ খাবার খান
তরমুজ, শসা, স্ট্রবেরি, কমলালেবু, লেটুস ইত্যাদি ৯০% এর বেশি পানি দিয়ে গঠিত।
এই ফল ও সবজি শরীরকে হাইড্রেট রাখে। খাবারের সঙ্গে বা স্ন্যাক্স হিসেবে সহজেই খাওয়া যায়।
পছন্দের পানির বোতল ব্যবহার করুন
দেখতে ভালো ও ব্যবহার সহজ বোতল হলে আপনি বেশি পানি পান করতে আগ্রহী হবেন। ঠাণ্ডা পানি ধরে রাখে এমন বোতল হলে আরও ভালো।
ফোনে রিমাইন্ডার দিন
পানি পান ভুলে যান? ফোনে অ্যালার্ম দিন বা খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পর ১ গ্লাস পানি পান করুন—এমন নিয়ম বানান।
পানিতে স্বাদ যোগ করুন
সরাসরি পানি খেতে ভালো না লাগলে লেবু, পুদিনা, বেরি, শসা দিয়ে ইনফিউজড ওয়াটার তৈরি করুন। এতে স্বাদ বাড়বে, পানিও বেশি খেতে ইচ্ছা করবে।
ব্যায়ামের আগে-পরে পানি পান করুন
ব্যায়াম বা হাঁটার আগে ও পরে পানি পান করা জরুরি। গরমে বেশি ঘাম হলে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ও প্রয়োজন হতে পারে।
ডিহাইড্রেশনের লুকানো লক্ষণগুলো লক্ষ্য করুন
সবসময় তেষ্টা লাগা প্রথম লক্ষণ নয়। চোখ-মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, ঘন হলুদ প্রস্রাব, ক্লান্তি ইত্যাদি হলে বুঝবেন আপনার শরীরে পানি কম।
কখন ডাক্তার দেখানো দরকার?
হালকা ডিহাইড্রেশন সাধারণত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু নিচের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
১। মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
২। ঘন ঘন বমি হওয়া
৩। শরীর গরম হয়ে লাল হয়ে যাওয়া কিন্তু ঘাম না হওয়া
৪। দ্রুত হার্টবিট বা শ্বাস
৫। ৮ ঘণ্টার বেশি প্রস্রাব না হওয়া
৬। তীব্র মাথাব্যথা বা পেশির খিঁচুনি
৭। বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
সূত্র : সল্ভ
















