বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও অবসাদ এখন এক ভয়ংকর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। শহরাঞ্চলে প্রতি ২০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন কোনও না কোনওভাবে অবসাদের সমস্যায় ভুগছেন।
এই সমস্যার শিকড়ে রয়েছে কর্মক্ষেত্রের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, পারিবারিক দায়িত্ব বা পুরনো মানসিক ট্রমা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের তুলনায় পুরুষেরা অবসাদ নিয়ে আরও বেশি নীরব রোগী।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নারীরা অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে কষ্টের বহিঃপ্রকাশ করেন। কিন্তু বহু পুরুষই মনে জট বেঁধে গেলেও তা চাপা দেন। ফলে সমস্যার গভীরতা বাড়ে।
পরিবারে আপনার বাবার আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এলে সেটা অবসাদের ইঙ্গিত হতে পারে।
যেমন: কথা বলায় অনীহা, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের সমস্যা, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া—এসবই অবসাদের লক্ষণ হতে পারে। সমস্যা জটিল হয় যখন এই পরিবর্তনকে পরিবার ‘বয়সজনিত মেজাজ’ বা ‘রাগ’ বলে এড়িয়ে যায়। বিশেষ করে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবারের কর্তা ব্যক্তিকে প্রশ্ন করাও অনেক বাড়িতে এখনো ট্যাবু। ফলে, মানসিক সমস্যাগুলো অজানা ও অনুচিকিৎসিত থেকে যায়।
এই পরিস্থিতিতে পরামর্শ, সরাসরি মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন না করে প্রথমে তার শারীরিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলতে পারলেই তার ভিতরের কথা জানা সম্ভব হবে। তবে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সেই মানুষটি নিজে চিকিৎসা নিতে রাজি না হলে পরিবার কিছুই করতে পারে না। সেক্ষেত্রে যার কাছে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নেন—হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য রোগের জন্য—তার সাহায্য নিয়ে মনোচিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের অবসাদও ঠিক মহিলাদের মতোই জটিল এবং গুরুত্বের দাবি রাখে।
তাই অবহেলা নয়, প্রয়োজন বুঝে সাহসের সঙ্গে সাহায্যের হাত বাড়ানো জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
















